Close
Showing posts with label ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label ইসলাম. Show all posts

Tuesday, December 3, 2024

বইনোট : একটি আদর্শবাদী দলের পতনের কারণ ও তার থেকে বাঁচার উপায় || মরহুম আব্বাস আলী খান রহ.



লেখক পরিচিতি || মরহুম আব্বাস আলী খান রহ.

•জন্মঃ ১৩২১ সালের ফাল্গুন মাসের শেষ সপ্তাহে।
•স্থানঃ জয়পুরহাট।
•পড়ালেখাঃ প্রথমে নিজ ঘরে কোরআনের ছবক নেন। ১৯২১ সালে ২য় শ্রেনিতে ভতি হন। ৬ষ্ঠ শ্রেনির পর হুগলী মাদ্রাসায় পড়তে যান। রাজশাহী ও কারমাইকেল কলেজে পড়েন। ১৯৩৫ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিস্টিংশনসহ বি.এ. পাশ করেন।
•স্কলারশীপঃ ৬ষ্ঠ শ্রেনিতে ১ বছরের গভর্নমেন্ট বৃত্তি ও চারবার মেয়াদী বৃত্তি লাভ করেন।

•কর্মজীবনঃ ১৯৩৫ সালে তিনি চাকুরী গ্রহণ করেন। কিন্তু নামাযে বাধা দেয়ায় চাকুরীতে ইস্তফা দেন। ১৯৩৬ সালে বেঙ্গল সেক্রেটারিয়েট যোগ দেন এবং শেরে বাংলার সেক্রেটারি হন। দেশ বিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের সার্কেল অফিসার হন। ১৯৫২ সালে জয়পুরহাট স্কুলের প্রধান শিক্ষক হন।

•রাজনীতি ও আন্দোলনঃ
১৯৫৫ সালে তিনি মুত্তাফিক ফরম পূরন করেন।
১৯৫৬ সালে জামায়াতের রুকন হন।
১৯৫৭ সালে রাজশাহী বিভাগীয় আমীর হন।
১৯৭৯ সালে থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সিনিয়র নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৯ থেকে ৯২ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৯ থেকে ৯২ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হন। আইয়ুব খানের মুসলিম পারিবারিক আইন বাতিলের জন্য আন্দোলন করেন।
১৯৭১ সালের মন্ত্রী পরিষদের শিক্ষামন্ত্রী হন।
১৯৮০ সালের ৭ ডিসেম্বর ইসলামী বিপ্লবের ৭ দফা গণদাবী ঘোষণা করেন।

ষাটের দশকের পাকিস্তান ডেমোক্রেটিভ মুভমেন্টের অন্যতম নেতা ছিলেন। গণ আন্দোলন কর্মসূচী ও কেয়ারটেকার সরকারের জন্য আন্দোলন করেন।
১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যান।
১৯৮৪ সালে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে বৃটেন যান।

•সাহিত্য চর্চাঃ অনুবাদ ও মৌলিক রচনা ৩৫টি। মৌলিক গ্রন্থ মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ

১. বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস
২. সমাজতন্ত্র ও শ্রমিক
৩. মুসলিম উম্মাহ
৪. ইসলামী আন্দোলন ও তার দাবী এবং অনূদিত গ্রন্থের মধ্যে অন্যতম
৫. সুদ ও আধুনিক ব্যাংকিং
৬. জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের ভিত্তি
৭. ইসলামী অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য
৮. পর্দা ও ইসলাম

ইন্তেকালঃ ৩ অক্টোবর ১৯৯৯ সালে ১:২৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।


১. যে আদর্শের হাতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার ক্ষমতা নেই জগতের কোথাও তার জন্য একটুও স্থান নেই। বিজয়ী সভ্যতার সমূহ কর্ম জগত থেকে দূরে সরে পরে। তার ব্যাপারে দুর দৃষ্টি ভঙ্গির অধিকারী ব্যক্তিদের মনেও এ পদ্ধতি দুনিয়ায় চলতে পারে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ জাগে।

২. কাজেই হুকুমতে এলাহিয়া কায়েম করে খোদার তরফ থেকে নবীগন যে ব্যবস্থা নিয়ে এসে ছিলেন তাকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করাই ছিল নবীদের মিশনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

৩. জাহেলিয়াত পন্থিদের তারা এতটুকু অধিকার দিতে প্রস্তুত ছিলেন যে, ইচ্ছা করলে তারা জাহেলি আকিদা বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে। কিন্তু কর্তৃত্বের চাবিকাঠি তাদের হাতে তুলে দেয়া যাবে না।

৪. এ জন্যই প্রত্যেক নবী রাজনৈতিক বিপ্লব সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।

নবীদের কাজঃ
১. সাধারণ মানুষের মাঝে চিন্তার বিপ্লব সৃষ্টি করা।
২. নির্ভেজাল ইসলামী শিক্ষায় প্রভাবিত একটি শক্তিশালী দল গঠন।
৩. ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করে তমুদ্দুনের সমস্ত বিভাগকে নির্ভেজাল ইসলামের ভিত্তিতে পুনর্গঠিত করা।

খেলাফতে রাশেদাঃ
১. হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তেইশ বছর নবুয়াতী জিন্দেগীতে যে সমস্ত কাজ পূর্ণরূপে সম্পাদন করেন।
২. আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও ওমর ফারুক (রা.) এর নেতৃত্ব।
৩. উসমান (রা.) এর শাসনামলের ১ম দিককার সময়।


১। একটি আদর্শবাদী দলের পরিচয়:

উত্তর: প্রতিষ্ঠিত সমাজ ব্যবস্থা সমুলে উৎপাটিত করে তার স্থলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে হলে একটি আদর্শ বেছে নিতে হয়। এর সাথে পৃথক চিন্তাধারাও থাকে। এ চিন্তা ও আদর্শের সাথে যারা সকল দিক দিয়ে একমত পোষণ করে তারা একটি দল গঠন করে। একে বলা হয় আদর্শবাদী দল।

২। আদর্শবাদী দলের পতনের কারণ বইয়ে উন্মাদ ও দেওয়ানা বলতে কি বোঝানো হয়েছে?

উন্মাদ: ময়দান নিশ্চিত হাতছাড়া হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ময়দানে নেমে পড়া আর জেনে শুনে আগুনে ঝাঁপ দেয়া সমান। উম্মাদেরাই শুধু এটা সম্ভব করতে পারে।

দেওয়ানা: দুর্দান্ত কুফরী শক্তির কর্তৃত্ব দেখার পরও যে ব্যক্তি দারুল ইসলাম কায়েমের জন্য ময়দানে নেমে পড়বে সে অবশ্যই দেওয়ানী।


৩। একটি আদর্শবাদী দলের পতনের কারণ:

১. দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ না করা।
২. কুরআন হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন না করা।
৩. সময় ও আর্থিক কোরবানীর প্রতি অবহেলা করা।
৪. দলীয় মূলনীতি মেনে না চলা।
৫. ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না করা।
৬. ভ্রাতৃত্ববোধের অভাব।
৭. জনশক্তির মধ্যেনৈরাশ্য ও হতাশা সৃষ্টি হওয়া।
৮. নেতৃত্বের অভিলাষ।
৯. অর্থ - সম্পদের প্রতি লালসা।
১০. জীবনমান উন্নত করার প্রবণতা।
১১. সহজ সরল জীবন যাপন না করা।
১২. মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমত পোষন করতে না পারা।
১৩. নেতৃত্বের দুর্বলতা
১৪. নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা আন্দোলনের পতন ডেকে আনে।
১৫. বায়তুলমাল সম্পর্কে আমানতদারীর অভাব এবং আর্থিক লেনদেনে সততার অভাব।
১৬. সহজ সরল জীবনযাপন না করা।


৪। তার থেকে বাচাঁর উপায়:

১. নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করা।
২. অতিরিক্ত যিকির আযকার করা
৩. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন
৪. আত্মসমালোচনা করা
৫. ক্রোধ দমন করা
৬. মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমত পোষন করা।
৭. বিরোধী পরিবেশ পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া।
৮. ত্যাগ ও কোরবানী করা
৯. সমস্যার ত্বরিত ও সঠিক সমাধান না করা।

৫। পারস্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ঠ হওয়ার কারন:

১. পারস্পরিক হিংসা বিদ্বেষ।
২. গীবত, পরনিন্দা, পরচর্চা।
৩. পরশ্রীকাতরতা।
৪. একে অন্যকে সন্দেহের চোখে দেখা।
৫. কারো বিপদে আপদে তার খোঁজ খবর না নেয়া।
৬. পরস্পরবৈষয়িক স্বার্থে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হওয়া।
৭. অযথা কারো প্রতি কু-ধারনা পোষণকরা।
৮. এসব কারণে শুধু একটি দলই নয়, বরং মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তি ও ন্নড়ে হয়ে পড়ে।

৬। দারুল ইসলাম ট্রাষ্ট গঠনের পটভূমি:-

১৯৩৭ সালে আল্লামা ইকবাল হায়দ্রাবাদ থেকে পাঞ্জাবে হিজরত করার জন্য মাওলানা মওদূদীকে আহ্বান জানান। আল্লামা ইকবাল তরজুমানুল কোরআনের মাধ্যমে মাওলানার গুনমুগ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি কখনো সাইয়্যেদ নাযির নিয়াযী এবং কখনো মিয়া মুহাম্মদ শফিকে দিয়ে তরজমানুল কোরআন পড়াতেন এবং মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। ঠিক এই সময়ে জনৈক অবসরপ্রাপ্ত এস.ডিও চৌধুরী নিয়ায আলী তার ৬০/৭০ একর জমি ইসলামের খেদমতের জন্য ওয়াক্ত করেছিলেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের পাকা ঘর বাড়ি তৈরি করে বিশেষ পরিকল্পনার অধীনে দ্বীনের বৃহত্তর খেদমতের অভিলাষী ছিলেন। এ ব্যপারে তিনি আল্লামা ইকবালের পরামর্শ চাইলে তিনি একমাত্র মাওলানা মওদূদীকে এ কাজের জন্য যথাযোগ্য ব্যক্তি মনে করেন। মাওলানা মওদূদী ড. ইকবালের অনুরোধে তার সাথে বিস্তারিত আলোচনার পর এ কাজের দায়িত্ব গ্রহন করতে রাজি হন এবং চিরদিনের জন্য হায়দ্রাবাদ পরিত্যাগ করে ১৯৩৮ সালের ১৬ মার্চ পূর্ব পাঞ্জাবের পাঠানকোর্ট নামক স্থানে হিজরত করেন। অতপর দারুল ইসলাম নামে একটা ট্রাষ্ট গঠন করে তার মহান কাজের সূচনা করেন।

Wednesday, October 9, 2024

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ হতে যুগান্তকারী ‘রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা’



৯ অক্টোবর বুধবার দুপুরে ঢাকার গুলশানস্থ হোটেল ওয়েস্টিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা’ জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়। আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, সম্পাদক, সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও গবেষকদের সামনে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন। আমীরে জামায়াতের পক্ষ থেকে ‘রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা’ উপস্থাপন করেন নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ-এর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জনাব হামিদুর রহমান আযাদ সাবেক এমপি, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন ও জনাব মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সকলেই জানি দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর একটি দল ও তাদের দোসররা ক্ষমতায় ছিলেন। তারা দেশকে যে শাসন উপহার দিয়েছিলেন তা বাংলাদেশের মানুষকে অতীষ্ঠ করে তুলেছিল। এর লক্ষ্যবস্তু বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক হয়েছিলেন। তাদের অপশাসনের হাত থেকে কেউই রেহাই পায়নি। এমনকি রাস্তার ভিক্ষুকও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। শিশু-বৃদ্ধ সকলেই এই কুশাসনের নজরে পড়েছিলেন। গত জুলাই মাসে ছাত্ররা বৈষম্যবিরোধী কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে। পরবর্তীতে এ আন্দোলন ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকারের পতন ঘটে। বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন। অনেকেই হাজারো মামলায় পড়েছেন, ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছেন, অনেকের ওপর আঘাত এসেছে, আমরা তাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

আমরা মনে করি সকলের সম্মিলিত প্রয়াসেই দেশে এমন একটি কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এসেছে। যার সূচনা হয়েছিল ২০০৯ সালের ১০ জানুয়ারির পর। তার পূর্ণতা পেয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। এটা ঠিক রাজনৈতিক দল এবং পক্ষ দফায় দফায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আর সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত দলের নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই দলের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে মিথ্যা অযুহাতে সাজানো আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের অপশাসনের প্রতিবাদ করেছেন এমন হাজারো মানুষকে দুনিয়া থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। অসংখ্য মানুষকে গুম করা হয়েছে। আয়নাঘর নামক কুখ্যাত কূপখানায় থাকতে বাধ্য করা হয়েছে অসংখ্য মানুষকে। তাদেরকে দিনের পর দিন নয়, সপ্তাহের পর সপ্তাহ নয়, মাসের পর মাস নয়, বছরের পর বছর ধরে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের পরিবার জানতো না, আদৌ তারা বেঁচে আছেন নাকি দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। যদি তারা চলে গিয়ে থাকেন তাহলে তাদের লাশটি কোথায়? কখন কীভাবে তাদেরকে দাফন করা হয়েছে কিছুই তারা জানেন না। খুব অল্প সংখ্যক সৌভাগ্যবান মানুষ ফিরে এসেছেন সেই কুখ্যাত আয়নাঘর থেকে। বাকীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে এ জাতি জানে না এবং তাদের আপনজনও জানে না। এইসব ব্যথিত আপনজনদের সাথে আমরাও সমানভাবে ব্যথিত।

তিনি আরও বলেন, অপশাসনের কালো অধ্যায় আল্লাহ তাআলা তার মেহেরবানী দিয়ে সাহায্য করে অপসারিত করেছেন গত ৫ আগস্ট। এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি আরেকবার আলহামদুলিল্লাহ। শেষ পর্যন্ত আমাদের তরুণ-তরুণীদের হাতে এই আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি পেয়েছে। আমি আরেকবার তাদের ভালবাসা, শ্রদ্ধা এবং শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।

উপস্থিত প্রিয় সাংবাদিক এবং দেশের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় সংগঠনের পক্ষ থেকে আপনাদের এবং জাতির জন্য আমাদের ভালবাসা। আমরা মৌলিক কী কী সংস্কার প্রয়োজন মনে করি সেই ভাবনা এখনই আপনাদের সামনে তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ। আমাদের ভাবনাগুলো অনলাইনের মাধ্যমে আপনাদের হাউজ-এ আমরা পৌঁছাব। আমরা আপনাদের প্রতি আবারো শুভেচ্ছা এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা’ জাতির উদ্দেশে তুলে ধরা হলো:

“রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
৯ অক্টোবর ২০২৪

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি- আলহামদুলিল্লাহ। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন মহান রাব্বুল আলামীন তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের সাথে সমঝোতা করে অবৈধভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করে। তারা দেশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য সংবিধানসহ সিভিল প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে একনায়কতন্ত্র কায়েম করে।তারা নিজেদের সুবিধামত সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দেয়া হয়। নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দেয়। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধীমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।দুর্নীতি, ব্যাংক লুটপাট, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে দেয়। হত্যা, গুম এবং মিথ্যা, সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের করে জেল-জুলুম ও নির্যাতন চালানো হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে দেড় সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যান। ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ করার জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার ব্যতীত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান সেক্টরের সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা তুলে ধরা হলো।

ডা. শফিকুর রহমান
আমীর
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।


১। আইন ও বিচার

● উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের জন্য সুষ্ঠু ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

● বিচার বিভাগ থেকে দ্বৈত শাসন দূর করতে হবে।

● বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

● আইন মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

● ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে বিদ্যমান আইনসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও গণমানুষের মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যশীল আইন প্রণয়ন করতে হবে।

● ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ওসকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।

● বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

● নিম্ন আদালতের যথাযথ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করতে হবে।

● সকল ফৌজদারি মামলা তদন্তের জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

● দেওয়ানি মামলার জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর এবং ফৌজদারি মামলাসমূহ সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান করতে হবে।




২। সংসদ বিষয়ক সংস্কার

● সংসদের প্রধান বিরোধীদল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করতে হবে।

● সংসদীয় বিরোধী দলীয় নেতার নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

● সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।




৩। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার

● জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা (Proportional Representation-PR) চালু করতে হবে।

● সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে সন্নিবেশিত করতে হবে।

● নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন দেশে প্রত্যাখ্যাত ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।

● কোনো সরকারি চাকরিজীবী তাদের চাকরি ছাড়ার কমপক্ষে ৩ বছরের মধ্যে কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

● স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

● অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ২০০৮ সালে প্রবর্তিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা বাতিল করতে হবে।

● নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠিত হবে।

● জাতীয় সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

● NID-ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের অধীনে আনতে হবে।




৪। আইনশৃঙ্খলা সংস্কার

ক) পুলিশ বাহিনীর সংস্কার

● ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত পুলিশ আইন পরিবর্তন এবং পুলিশের জন্য একটি পলিসি গাইডলাইন তৈরি করতে হবে।

● পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যূতির জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে।

● নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যূতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশের সুযোগ রাখা যাবে না তথা সর্বপ্রকার দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

● পুলিশ ট্রেনিং ম্যানুয়ালের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক অনুশাসন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

● পুলিশের মধ্যে মারণাস্ত্রের ব্যবহার বাতিল করতে হবে।

● রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে আসামি পক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতি এবং মহিলা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের অভিভাবকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

● বিচার বিভাগীয় সদস্যদের দ্বারা পুলিশ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান থাকতে হবে।

● পুলিশের ডিউটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উন্নত করতে হবে।

● ‘পুলিশ আইন’ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করতে হবে।




খ) র‌্যাব বিষয়ক সংস্কার

● র‌্যাব ও অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।

● গত সাড়ে ১৫ বছর যারা র‌্যাবে কাজ করেছে তাদেরকে স্ব স্ব বাহিনীতে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তাদেরকে পুনরায় র‌্যাবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।

● বিচারবহির্ভূত সকল প্রকার হত্যাকা- বন্ধ করতে হবে।

● র‌্যাবের সামগ্রিক কার্যক্রম মনিটরিং-এর জন্য সেল গঠন করতে হবে। কোনো র‌্যাব সদস্য আইনবহির্ভূত কোনো কাজে জড়িত হলে এই সেল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করবে।

● মিডিয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।




৫। জনপ্রশাসন সংস্কার

● জনবল নিয়োগ, বদলি, পদায়নে তদবির, সুপারিশ ও দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

● যে কোনো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে নিয়োগ পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ না করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

● সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে করতে হবে।

● চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আগামী ২ বছরের জন্য ৩৫ বছর ও পরবর্তী বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৩ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে।

● চাকরির আবেদনে সকল ক্ষেত্রে বয়সসীমার বৈষম্য নিরসন করতে হবে।

● সকল সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি নিরোধকল্পে বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে করে কেউ দুর্নীতি করার সুযোগ না পায়। এ জন্য প্রয়োজনীয় মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে।

● চাকরিতে বিরাজমান আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করতে হবে।

● বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি চাকরিতে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দলীয় বিবেচনায় চাকরি পেয়েছে তাদের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।




৬। দুর্নীতি

● দুর্নীতি দমন কমিশনে পরীক্ষিত সৎ, ন্যায়পরায়ণ, দক্ষ ও যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে হবে।

● রাষ্ট্রের সকল সেক্টরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

● দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে।

● বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উপযুক্ত বিধান প্রণয়ন ও তা কার্যকর করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

● মন্ত্রণালয় ভিত্তিক দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করতে হবে।

● দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনসংস্কার, জনবল ও পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে।

● রাষ্ট্রীয় ও জনগণের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ দখলকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে।




৭। সংবিধান সংস্কার

● রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রাখার বিধান সংযুক্ত করতে হবে।

● একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।




৮। শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কার

ক) বিরাজমান সমস্যার আলোকে শিক্ষা সংস্কার প্রস্তাব

● ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে উচ্চমাধ্যমিক হিসেবে বলবৎ রাখতে হবে। অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করে পূর্বের পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে হবে।

● পাঠ্যপুস্তকে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গুরুত্বের সাথে তুলে ধরতে হবে।

● সকল শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী উপাদান বাদ দিতে হবে।

● সকল শ্রেণিতে নবী করিম সা. এর জীবনীসহ মহামানবদের জীবনী সংবলিত প্রবন্ধ সংযোজন করতে হবে।

● স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিদ্যমান স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে সরকারিকরণ করতে হবে।

● প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে কামিল মাদরাসাকে সরকারিকরণ করতে হবে।

● কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করতে হবে।

● Department of Higher Education নামে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে।

● শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত শিক্ষা কমিশনের সকল ধারা তথা সাধারণ, আলিয়া, কওমীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।




খ) সংস্কৃতি সংস্কার

● জাতির ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও মূল্যবোধের আলোকেবিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে।

● জাতির ঐতিহাসিক দিনগুলোকে স্মরণীয় করার লক্ষ্যে বিশেষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তা পালনের ব্যবস্থা করতে হবে।

● নাটক, সিনেমাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানগুলো অশ্লীলতামুক্ত করতে হবে। নাটক, সিনেমা ও বিভিন্ন কন্টেন্টে বিভিন্ন ধর্ম, বিশেষ করে ইসলামকে হেয় করা থেকে বিরত থাকার বিধান প্রণয়ন করতে হবে।

● প্রাণীর মূর্তিনির্ভর ভাস্কর্য নির্মাণ না করে দেশীয় প্রকৃতি, ঐতিহ্যকে বিভিন্ন চিত্রাঙ্কন-ভাস্কর্যে তুলে আনতে হবে।

● সকল গণমাধ্যমে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম প্রচার নিশ্চিত করতে হবে।




৯। পররাষ্ট্র বিষয়ক সংস্কার

● পররাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল গণতান্ত্রিক দেশের সাথে সাম্য ও নায্যতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

● জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চীন, নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক নদীসমূহের পানিবণ্টন চুক্তির উদ্যোগনিতে হবে।

● আসিয়ানভুক্ত দেশসমূহের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে।

● অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে বিগত সরকারের আমলে সম্পাদিত সকল চুক্তি রিভিউ করতে হবে। এক্ষেত্রে একটিরিভিউ কমিশন গঠন করতে হবে।

● বাংলাদেশকে আসিয়ান জোটভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

● শক্তিশালী SAARC পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

● কোনো দেশের সাথে চুক্তি অথবা সমঝোতা চুক্তি হলে পরবর্তী সংসদঅধিবেশনে সেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক উত্থাপন করে বিস্তারিত আলোচনা পূর্বক তা অনুমোদন করতে হবে।




১০। ধর্ম মন্ত্রণালয় সংস্কার

● ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে (ইফাবা) রাষ্ট্রের কল্যাণে অর্থবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

● ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিকে স্বতন্ত্র সংস্থা বা দপ্তরে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

● ইসলামিক মিশনকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

● হজ্জব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

● হজ্জ ও উমরার খরচ কমানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

● ইসলামিক ফাউন্ডেশনে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে দেশের বরণ্যে আলেমগণ সম্পৃক্ত থাকবেন।

● বিতর্কিত সকল বই বাতিল ও প্রকাশনা বন্ধ করতে হবে।

● সকল ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

Sunday, July 7, 2024

দারসুল হাদিস : অধিকাংশ নারী জাহান্নামে যাবার কারণ


দারসুল হাদিস : অধিকাংশ নারী জাহান্নামে যাবার কারণ 

 وَعَنْ أَبِي سَعِيدِنِ الْخُدْرِيِّ قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَضْحَى أَوْ فِطْرٍ إِلَى الْمُصَلَّى فَمَرَّ عَلَى النِّسَاءِ ، فَقَالَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ ، فَإِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ ، فَقُلْنَ وَبِمَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ ، وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلِ وَدِيْنٍ أَذْهَبَ لِلبِّ الرَّجُلِ الْحَازِمِ مِنْ إِحْدَا كُنَّ قُلْنَ وَمَا نُقْصَانُ دِيْنِنَا وَعَقْلِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ أَلَيْسَ شَهَادَةُ الْمَرْأَةِ مِثْلُ نِصْفِ شَهَادَةِ الرَّجُلِ ؟ قُلْنَ بَلَى - قَالَ فَذَلِكَ مِنْ تُقْصَانِ عَقْلِهَا قَالَ أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلُّ وَلَمْ تَصُمْ؟ قُلْنَ بَلَى قَالَ فَذَلِكَ مِنْ نُّقْصَانِ دِيْنِهَا - (مُتَّفِقٌ عَلَيْهِ)

•হাদীসের অনুবাদ: 

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের দিন (রাবীর সন্দেহ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঈদগাহে গেলেন এবং উপস্থিত মহিলাদের কাছে পৌঁছলেন। অতঃপর তাদেরকে বললেনঃ হে নারী সমাজ! তোমরা দান-খয়রাত করো। কেননা, আমাকে জানানো হয়েছে যে, দোযখের অধিকাংশ বাসিন্দা তোমাদের নারীরাই হবে। তারা বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ কারণে? হুজুর উত্তরে বললেনঃ তোমরা অপরের প্রতি বেশী লা'নত (অভিশাপ) দিয়ে থাকো এবং স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো। যারা বুদ্ধি ও দ্বীনদারীতে অপূর্ণ এমন কেউ যে বিচক্ষণ বুদ্ধিমান পুরুষের বুদ্ধি তোমাদের কোনো একজন অপেক্ষা বেশী হরণ করতে পারে, তা আমি আর দেখিনি। তারা প্রশ্ন করলোঃ আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির অপূর্ণতা বলতে কি বুঝায় ইয়া রাসূলুল্লাহ্? হুজুর উত্তরে বললেনঃ নারীদের স্বাক্ষ্য কি পুরুষের স্বাক্ষের অর্ধেকের সমান নয়? (তার কারণ, কুরআনে দুইজন নারীর স্বাক্ষ্য একজন পুরুষের সমান উল্লেখ রয়েছে)। তারা উত্তরে বললোঃ জ্বী হ্যাঁ! হুজুর বললেনঃ এটাই নারীর বুদ্ধির অপূর্ণতা। অতঃপর হুজুর জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাদের কারও যখন মাসিক ঋতু হয় তখন সে যে, নামায-রোজা করে না (করতে পারে না) এটা কি সত্য নয়? উত্তরে তারা বললোঃ জ্বী হ্যাঁ হুজুর। নবী করীম (সাঃ) বললেনঃ এটাই তোমাদের দ্বীনের অপূর্ণতা। (বুখারী মুসলিম)

•রাবী বা বর্ণনাকারীর পরিচয়:

নাম-সা'দ। ডাকনাম আবু সাঈদ। খুদরাহ্ বংশের সন্তান হবার কারণে খুদারী বা খুদরী বলা হয। পিতার নাম-মালিক ইবনে সিনান। উহুদের যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। এ যুদ্ধে রাসূলে করীম (সাঃ) আহত হলে তিনি তাঁর পবিত্র রক্ত চুষে গিলে ফেলেন। এতে রাসূল (সাঃ) মন্তব্য করেনঃ আমার রক্ত যার রক্তে মিশে গেছে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। মাতার নাম-উনায়সা বিনতু আবী হারিসা। আবু সাঈদ জন্মগ্রহণ করনে হিজরতের ১০ বছর পূর্বে ৬১৩ খৃষ্টাব্দে ইয়াসরীবে (মদীনায়)। আবু সাঈদ মুসলিম মা-বাবার কোলেই বেড়ে উঠেন। তাঁর মৃত্যুক্ষণ সম্পর্কে কেউ বলেন ৭৪ হিজরীতে। আবার কেউ বলেন ৬৪ হিজরীতে। মৃত্যুর সময় তার অনেক বয়স হয়েছিলো। কারো মতে তিনি ৭৪ বছর বেঁচে ছিলেন। আবার কারো মতে ৮৬ বছর বয়সে মারা যান এবং এটাই সঠিক। তিনি একজন বিশিষ্ট হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১,১৭০টি। 

•হাদীসটি বর্ণনাকারী কিতাবের পরিচয়:

হাদীসের পরিভাষায় 'মুত্তাফিকুন আলাইহ্' বলতে বুখারী এবং মুসলিম শরীফকে বুঝানো হয়েছে।

 •হাদীসটি বর্ণনার সময়কাল
আল-কুরআন অবতরণের সময়কাল যেভাবে সহজে অনুধাবন করা যায়। হাদীসের ক্ষেত্রে সেভাবে পাওয়া যায় না। তার পরও হাদীসটির বিষয়বস্তু থেকে অনুভব করা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) হাদীসটি মাদানী জীবনের মধ্যবর্তী অথবা তারও কিছু আগে বর্ণনা করেন। কেননা, হাদীসে ঈদের জামায়াতের কথার উল্লেখ রয়েছে। আর জামায়াতে ঈদের নামায আদায়ের পদ্ধতি হিজরতের পর মাদানী জীবনে চালু হয়। হাদীসে উল্লেখ রয়েছে তৎকালীন সময় মদীনার লোকেরা দু'টি মেলা জাহেলী পদ্ধতিতে উদ্যাপন করতো। রাসূল (সাঃ) তাদেরকে আহবান জানিয়ে বলেছিলেনঃ মুসলমানদের জন্য এর চেয়েও দুটি আনন্দের দিন রয়েছে তা হলো-"ঈদুল ফিতর" এবং "ঈদুল আযহা।"

•ব্যাখ্যা
নারীরা অধিকাংশই দোযখী এই সতর্কবাণী শুনাতে এবং তাদেরকে তা থেকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে গিয়ে নবী (সাঃ) বলেনঃ
رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيخَرَجَ أَضْحَى أَوْ فِطْرِ إِلَى الْمُصَلَّى فَمَرَّ عَلَى النِّسَاءِ "একবার ঈদুল আযহা (বকারাইদ) অথবা ঈদুল ফিতরের দিন (রাবীর সন্দেহ) রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ঈদগাহে গেলেন এবং (জামায়াতে উপস্থিত) মহিলাদের কাছে হাজির হলেন।"
মদীনার যুগে ঈদের নামায মাঠে পড়ার পদ্ধতি চালু হবার পর বর্ণনাকারীর সন্দেহ রয়েছে তা ঈদুল আযহার দিনও হতে পারে। আবার ঈদুল ফিতরের দিনও হতে পারে। যাই হোক কোনো একক্স ঈদের মাঠে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) যেদিকে মহিলারা অবস্থান করেছিলো সেইদিকে চলে গেলেন এবং তাদের জন্য পৃথকভাবে নছিহত করলেন।

প্রকাশ থাকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) মহিলাদেরকে ঈদের মাঠে হাজির হবার জন্য তাগাদা দিতে গিয়ে অনেক হাদীসই উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে যেমন তিনি বলেনঃ "মেয়েরা হায়েজ অবস্থায় থাকলেও যেন তারা ঈদগাহে হাজির হয় এবং (নামায না পড়ে) দোয়াতে শরীক হয়"। অন্য হাদীসে রাসূল (সাঃ) বলেনঃ "মহিলারা যেন অন্যের চাদর ধার করে হলেও ঈদের মাঠে যায়।" উক্ত হাদীস দু'টি থেকে বুঝা যায় যে, রাসূল (সাঃ) মহিলাদরকে ঈদের মাঠে যাবার জন্য তাগাদা দিতেন এবং মহিলারাও স্বতস্ফূর্তভাবে পর্দার সাথে ঈদগাহে সমবেত হতো। প্রশ্ন হতে পারে যে, রাসূল (সাঃ) একেবারে মহিলাদের কাছে পৌঁছে গেলেন এতে কি পর্দার খেলাপ হলো না? উত্তরে বলা যায়, হুজুরের সময় মহিলারা অত্যন্ত সাদাসিধে এবং সালিন ভাবে চলাফেরা করতো। তারা শরীর ঢেকে পর্দার সাথে ঈদ ও জুমুয়ার নামাজে হাজির হতো এবং পুরুষদের থেকে পৃথক হয়ে বসতো। তাদের শরীর ঢেকে ও পবিত্রতা রক্ষা করে চলার বিধান সূরা নূর এবং আহযাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন সূরা আহযাবে উল্লেখ রয়েছে "হে নবী আপনার স্ত্রীদেরকে, আপনার মেয়েদেরকে এবং মু'মিনদের স্ত্রীদেরকে বলে দিন যে, তারা যেন নিজেদের (শরীরের) উপর চাদর ঝুলিয়ে দেয়।" সুতরাং বলা যায় মহিলারা ঈদের জামায়াতে পর্দার সাথে পৃথকভাবে সমবেত ছিলো এবং সেখানে গিয়ে কেবলমাত্র মেয়েদের সম্পর্কেই গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ বাণী শুনিয়েছিলেন; যা ছিলো রাসূল (সাঃ) এর দায়িত্ব। রাসূল (সাঃ) ঈদগাহে সমবেত মহিলাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ، فَإِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَأَ هْلِ النَّارِ

"হে নারী সমাজ। তোমরা দান-খয়রাত করো। কেননা, আমাকে জানানো হয়েছে যে, অধিকাংশ মহিলারাই দোযখী হবে।" হাদীসের এই অংশে মহানবী (সাঃ) মহিলাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন যে, তোমরা বেশী বেশী করে দান-সদকাহ্ করো, কেননা বেশীর ভাগ মহিলারাই জাহান্নামী হবে। এখানে রাসূল (সাঃ) বলছেন যে, 'আমাকে জানানো হয়েছে' অথবা 'দেখানো হয়েছে' উভয় হতে পারে। যদি 'জানানো হয়েছে' বলা হয় তাহলে, জীবরাঈল (আঃ) অহীর মাধ্যমে রাসূলকে জানিয়ে দিয়েছেন। আর যদি 'দেখানো হয়' তাহলে, বলা যায় যে, মে'রাজের রাতে রাসূল (সাঃ) কে জীবরাঈল (আঃ) সাথে করে নিয়ে জান্নাত এবং জাহান্নাম পরিদর্শন করিয়েছিলেন। যেখানে রাসূল (সাঃ) অধিকাংশ মহিলাদেরকে জাহান্নামী দেখে 'জীবরাঈলকে প্রশ্ন করেছিলেন' কোন্ কারণে মেয়েরা এত জাহান্নামী? উত্তরে জীবরাঈল (আঃ) বলেছিলেনঃ মহিলারা তাদের স্বামীর প্রতি অভিশাপ অর্থাৎ অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে এজন্যই তারা বেশী জাহান্নামী।

হাদীসের এই বাক্যে মেয়েদেরকে নসীহত করতে গিয়ে বেশী বেশী দান- খয়রাত করার জন্য উপদেশ দিয়েছেন। এতে বুঝা যায় যে, দান-খয়রাত এমনই এক আ'মল যার প্রেক্ষিতে অনেক গোনাহ্ থেকে মুক্ত করে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে দেয়। সুতরাং এখানে দান-খয়রাতের গুরুত্ব অত্যধিক বেশী তা বুঝা যাচ্ছে। সুতরাং শুধু মহিলারাই নয় পুরুষদেরও দান-খয়রাতের হাত প্রসারিত করা উচিত। রাসূল (সাঃ) নারীদের ব্যাপারে এই কথা বলার প্রেক্ষিতে সমবেত মহিলারা রাসূল (সাঃ) কে প্রশ্ন করে জানতে চায় যে,

فَقُلْنَ وَبِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟

"তারা বললোঃ কোন্ অপরাধে হে আল্লাহ রাসূল! (নারীরা বেশী জাহান্নামী হবে?) প্রতি উত্তরে রাসূল (সাঃ) পর পর দু'টি কারণ উল্লেখ করে বলেন:

تُكْثِرْنَ اللَّعَنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ

"তোমরা অন্যের প্রতি বেশী বেশী লা'নত (অভিশাপ) করে থাকো এবং স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো।"

নারীদের বেশী জাহান্নাম যাবার দু'টি গুরুত্বপূর্ণ দূর্বলতার কথা যা তাদের সৃষ্টিগত ভাবেই এই ধরনের অপবাদের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় যে, তারা কথায় কথায় অভিশাপ দিয়ে বসে এবং স্বামীদের সামান্যতম লেন-দেনে ত্রুটি দেখা দিলেই অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফেলে।

লা'নত-অর্থ অভিশাপ। অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কোনো বান্দাকে তার দরবার বা রহমত হতে দূর করে দেয়া। যা শুধু কাফেরদের জন্যই হয়ে থাকে। মুসলমান তো নয়ই বরং কুরআন-হাদীসে কাফের বলে উল্লেখ নেই এমন কোনো নির্দিষ্ট অমুসলমান (আহলে কেতাব) ব্যক্তির প্রতিও লা'নত করা জায়েজ নেই। লা'নতের উপযুক্ত নয় এমন কোনো ব্যক্তির প্রতি লা'নত করা হলে সে লা'নত লা'নতকারীর প্রতিই ফিরে আসে বলে হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। অথচ নারীরাই অন্যের প্রতি লা'নত করতে বড়ই ওস্তাদ। তারা কথায় কথায় বলে থাকে, "তোর উপর আল্লাহর লা'নত", 'তুই ধ্বংস হয়ে যা," "আল্লাহর রহমত থেকে দূর হয়ে যা", ইত্যাদি কথা দ্বারা লা'নত করে থাকে। সুতরাং রাসূল (সাঃ) এর হাদীস অনুযায়ী অধিকাংশ লা'নতই যে তাদের প্রতি ফিরে আসে এবং তাদের জাহান্নামে যাবার কারণ হয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাদের দ্বিতীয় বদ অভ্যাস হলো, স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

স্ত্রীদের প্রতি কোনো কিছু দিতে গিয়ে কিম্বা সংসারে কোনো কাজে অথবা ব্যবহারে যদি কোনো এক সময় ঘাটতি হয়ে যায় তা হলে হঠাৎ করেই বলে ফেলে "তোমার সংসারে এসে কোনদিন আমি সুখ পেলাম না" "তোমার কাছে এসে আমি ভালো কিছু পরতে পারলাম না" "কোনো দিন তোমার একটু ভালো ব্যবহার পেলাম না" "জীবন ভর তোমার দাসী হয়ে থাকতে হলো" ইত্যাদি কথা বলে স্বামীর অন্যসব অবদানকে অস্বীকার করে মনে কষ্ট দেয়। মানুষেরই হোক আর আল্লাহরই হোক কোনো অকৃতজ্ঞ বান্দাহকে আল্লাহ্ পছন্দ করেন না। যার কারণে স্বামীর প্রতি এই অন্যায় অকৃতজ্ঞতার কারণে মেয়েলোকেরা বেশী বেশী দোযখী হবে। যা রাসূল (সাঃ) মে'রাজের রাতে স্বচক্ষে দেখে এসেছিলেন। অতঃপর রাসূল (সাঃ) মেয়েদের দু'টি ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বলেনঃ

مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلِ وَدِينِ أَذْهَبَ لِلَّةٍ الرَّجُلِ الْحَازَمِ مِنْ إِحْدَاكُنَّ

"যারা বুদ্ধি ও দ্বীনদারীতে অপূর্ণ এমন কেউ যে বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান পুরুষের বুদ্ধি তোমাদের কোনো একজন অপেক্ষা বেশী হরণ করতে পারে, তা আমি আর দেখিনি।" এখানে নারীদের পুরুষদের চেয়ে দু'টি ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছেঃ (১) তাদের দ্বীনের ঘাটতি এবং (২) বুদ্ধির ঘাটতি। কেননা, পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের দ্বীনের ঘাটতি রয়েছে এবং বুদ্ধিরও ঘাটতি রয়েছে। রাসূল (সাঃ) ঈদগাহে সমবেত মহিলাদেরকে এ দু'টি ঘাটতির কথা উল্লেখ করলে, উপস্থিত মহিলারা রাসূল (সাঃ)কে প্রশ্ন করলো:
وَمَا نُقْصَانُ دِيْنِنَا وَعَقْلِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের দ্বীন এবং বুদ্ধির ঘাটতি কি?"
তখন প্রতি উত্তরে রাসূল (সাঃ) তাদের উক্ত দু'টি ঘাটতির প্রথমটির কারণ উল্লেখ করে বললেনঃ
أَلَيْسَ شَهَادَةُ الْمَرْأَةِ مِثْلَ نِصْفِ شَهَادَةِ الرَّجُلِ ؟ قُلْنَ بَلَى فَذُلِكَ مِنْ نُّقْصَانِ عَقْلِهَا

"নারীদের স্বাক্ষ্য কি পুরুষের স্বাক্ষ্যের অর্ধেকের সমান নয়? তারা উত্তরে বললোঃ জি হ্যাঁ! হুজুর বললেনঃ এটাই হলো নারীর বুদ্ধির অপূর্ণতা।"

অর্থাৎ রাসূল (সাঃ) পুরুষদের চেয়ে নারীদের বুদ্ধির ঘাটতির কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন আকারেই তাদের বললেনঃ নারীদের স্বাক্ষ্য কি পুরুষদের স্বাক্ষ্যের অর্ধেকের সমান নয়? তাতে তারা স্বীকার করে বলেছিলো, জি হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আপনার কথায় আমরা একমত। সাথে সাথে রাসূলও তাদেরকে বুঝিয়ে দিলেন, এটাই হলো- নারীদের বুদ্ধির ঘাটতি। উপস্থিত মহিলাদের রাসূলের কথায় একমত হবার কারণ হলো, তারা ইতোমধ্যে আল-কুরআনের মাধ্যমে জানতে পেরেছে দু'জন নারীর স্বাক্ষ্য একজন পুরুষের সমান। সুতরাং তারা আর পাল্টা প্রশ্ন না করে সাথে সাথে স্বীকার করে নিয়েছে।

অপূর্ণ বুদ্ধিঃ কুরআন এবং হাদীসে নারীদের বুদ্ধি পুরুষদের চেয়ে কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে তা আধুনিক বিজ্ঞানে প্রমাণ করে দিয়েছে। বিজ্ঞানীদের সর্বসম্মত মত হলো এই যে, মানুষের বুদ্ধির এই তারতম্য তাদের মগজের তারতম্যের উপর নির্ভর করে। কেননা, একজন নির্বোধ বোকা লোকের মগজ হতে একজন অতি বুদ্ধিমান লোকের মগজের ওজন অনেক বেশী। অনুরূপ ভাবে পুরুষদের মগজের ওজন নারীদের তুলনায় গড়ে অনেক বেশী। পুরুষদের মগজের সাধারণ ওজন ৪৯২ উকিয়া,. আর নারীদের হচ্ছে- ৪৪ উকিয়া। (আরবীয় ওজন)
২৭৮ জন পুরুষের মগজ ওজন করে দেখা গেছে যে, বড় মগজের ওজন ৬৫ উকিয়া এবং সর্বাপেক্ষা ছোট ওজনের মগজ হলো ৩৪ উকিয়া। অপরপক্ষে ২৯১ জন নারীর মগজ মেপে দেখা গেছে যে, সর্বাপেক্ষা বড় মগজের ওজন ৫৪ উকিয়া এবং সবচেয়ে ছোট মগজের ওজন ৩১ উকিয়া। (আল্ মারআতুল মুসলিমা' ফরীদ ওয়াজদী')।

তবে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কিভাবে একজন পুরুষের উপর মহিলা নেতৃত্ব কর্তৃত্ব করছে? তাহলে এর উত্তর হবে এই যে, আসলে তুলনা হবে বিচক্ষণের সাথে বিচক্ষণের। দেশের কোনো বিচক্ষণ নারীর তুলনা করতে হলে সেই দেশের বিচক্ষণ পুরুষের সাথে তুলনা করতে হবে। একজন বিচক্ষণ নারীর সাথে আর একজন বোকা পুরুষের তুলনা করলেতো চলবে না! কেননা, পুরুষ এবং নারীর জ্ঞান-বুদ্ধি সকলের একই সমান নয়। সুতরাং বিচক্ষণের সাথে বিচক্ষণের তুলনা করলে ঠিকই দেখা যাবে এই বিচক্ষণ, পুরুষের চেয়ে ঐ বিচক্ষণ মহিলার বুদ্ধির ঘাটতি রয়েছে। তবে সমাজে একটা বিষয় চালু আছে যে, মহিলাদের কোনো পরামর্শ নেয়া যাবে না। কেননা, তারা কু-বুদ্ধি দিয়ে আদম (আঃ) কে গন্দম ফল খাওইয়ে বেহেশত থেকে বিতাড়িত করেছিলো। আসলে কিন্তু ঘটনা তা নয়। কুরআনে উল্লেখ রয়েছে তারা উভয়েই শয়তানের প্ররচনায় আল্লাহর নির্দেশ ভুলে গিয়ে গন্দম ফল খেয়ে ফেলেছিলো। সুতরাং খালি খালি মেয়েদেরকে এককভাবে দায়ী করে তাদের পরামর্শ নেয়া থেকে দূরে থাকা ঠিক হবে না। সংসার এবং দেশ পরিচালনার জন্যও রাসূল (সাঃ) তাঁর বিবিগণের সাথে পরামর্শ করতেন। ফলে আমাদেরও সংসার এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিজেদের স্ত্রীদের সাথেও প্রয়োজনে পরামর্শ করা উচিত।

অতপর নারীদের দ্বিতীয় ঘাটতির কারণ উল্লেখ করে রাসূল (সাঃ) বললেনঃ

الَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصْمْ؟ قُلْنَ بَلَى قَالَ فَذَلِكَ مِنْ نُّقْصَانِ دِيْنِهَا

"তোমাদের যখন কারো মাসিক ঋতু হয় তখন তো সে নামাজ রোজা করে না বা করতে পারে না এটা কি সত্য নয়? তারা উত্তরে বললোঃ জ্বী হ্যাঁ। হুজুর বললেনঃ এটাই তাদের দ্বীনের অপূর্ণতা।"

নারীদের দ্বীনের ঘাটতির কারণ মাসিক ঋতু বা হায়েজ। এটা তাদের ক্ষমতাধীন নয়। এটা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে দেয়া এক প্রকারের রোগ। ইসলামী শরীয়তে মেয়েদের দু'টি অবস্থায়- ঋতু কালীন ১০ দিন এবং নেফাস অর্থাৎ বাচ্চা ভূমিষ্ট হবার পর ৪০ দিন পর্যন্ত নামাযও পড়া যায় না এবং রোজাও রাখা যায় ন। অপর পক্ষে পুরুষদের এই ধরনের কোনো কিছুর সম্মুখীন হতে হয় না। ফলে পুরুষেরা উক্ত সময় নামাজ রোজা আদায়ের মাধ্যমে নারীদের চেয়ে দ্বীনের কাজে অগ্রগামী হয়ে যায়। সুতরাং এর দ্বারা বোঝা যায় যে, নারীরা সৃষ্টিগত ভাবে পুরুষের সমান নয়।


শিক্ষা:
• মহিলাদেরকে পরিবেশ তৈরী করে ঈদের মাঠে নিয়ে যাওয়া এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং জুমুয়ার নামাজ জামাতের সাথে আদায়েরও ব্যবস্থা করা। এই জন্য সামাজিক ভাবে পর্দা প্রথা চালু করা এবং ঈদগাহে ও মসজিদে মহিলাদের নামাজ আদায় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা। 

• মা-বোনদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, যে কোনো কারণেই হোক না কেন নিজের ছেলে-মেয়ে সহ অন্যান্য যে কোনো লোককে (কাফের বাদে) লা'নত বা অভিশাপ বা বদ দোআ না দেয়া। কেননা অভিশপ্ত ব্যক্তি অভিশাপের উপযুক্ত না হলে সেই অভিশাপ নিজের উপর বর্তাবে এবং পরিনামে জাহান্নামে যেতে হবে।

• কোনো স্ত্রী যেন আপন স্বামীর প্রতি কখনো কোনো সময় নাশুকরী বা অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে। কেননা, কৃতজ্ঞ বা অল্পে তুষ্ট নারী যেমন স্বামীর দোআ এবং ভালবাসা পায় তেমনি আল্লাহ্ও সন্তুষ্ট হন।

• নারীদের উচিত বেশী বেশী করে দান-খয়রাত করা। কেননা, রাসূলের নসিহত অনুযায়ী তাদের দু'টি অপরাধ-অভিশাপ এবং নাশুকরির কারণে জাহান্নাম থেকে বাঁচার বিশেষ ব্যবস্থা হলো দান-খয়রাত করা।
• পুরুষদের উচিত নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সংসার এবং নিজের সামাজিক দায়-দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পরামর্শ করা। এতে সংসারে শৃংখলা এবং শান্তি থাকে। তবে পুরুষদেরকে স্ত্রীদের পরামর্শ বাছাই করার যোগ্যতা থাকতে হবে। কেননা, নারীদের সকল পরামর্শ গ্রহণ করা ঠিক হবে না।


The Islamic Basis of the Coming Muslim Technological Renaissance by Ali Kyrala

It is argued that the Muslim countries will have a technological renaissance provided they can re-introduce sufficient free competition into their economies and cultures. The Western world is moving towards a catastrophic decline due to its unreasonable delusion that exponential growth rates can be maintained in the absence of new frontiers, due to the unchecked growth of usury west of the Iron Curtain and due to the unchecked growth of state police authority east of the Iron Curtain. Millions of non-Muslims of the East and West are weary of the extremisms of the right and the left and of the attempts to impose upon them private cartelism disguised as a "free economy" or state cartelism disguised as a dictatorship of the "proletariat". They are disgusted and repulsed by propaganda presented to them by political states or "the golden calf" as substitutes for Allah. They will be attracted in great numbers to join Islam if only it can be presented as it was by the Prophet Muhammad on the basis of sincere compliance to his teachings rather than the emphasis on mechanical observances furthered by "Muslim clergy" acting as mediators in contradiction to the Prophet's admonitions. The conception of many Muslim theologists, that science and engineering (or in general innovative thinking) have nothing to do with salvation, must be modified. Their formalistic conceptions of the faith have not produced an iota of improvement in the condition of the oppressed and economically disadvantaged Muslim communities. The general decay in their condition is a message from Allah. Muslims should strive and compete freely to produce the highest level of Muslim culture, not simply lament. If every single Muslim strove continually to learn more than is required for his own livelihood, the brave Islamic Mujahideen would not be so oppressed by technologically superior opponents in so many places in the world. Only Islam, among all religions, with its rejection of anthropomorphic images of the deity and its rejection of special ethnic and political privileges is sufficiently "modern" in concept to survive a hypothetical contact with extraterrestrial races in the galaxy. The recognition that Islam is consistent with modern science should motivate all Muslim scientists and engineers to that extra effort required to return Islamic technology to the forefront of human progress.

Every sincere Muslim has a justifiable pride in the magnificient accomplishments of Muslim scientists, engineers and architects from the first to the ninth century A. H. During that period Muslim countries were att the forefront of world technological progress. To return the Muslim Ummah to this position should be the earnest desire of each technically trained Muslim.

In order to do so, one must comprehend clearly the reasons for the technological decay of the Islamic countries from that position of preeminence during the last 400 years of scientific "sleep" in those countries.

Criticism is often rejected within the Muslim community because it is perceived by some as an attack against Islam itself. Such is not the purpose of this essay. It is to be pursued critically within the framework of the British concept of "the loyal opposition" which seeks to improve, not to undermine. Even as the sharp scalpel of the surgeon may hurt the patient it is used to his ultimate benefit. Those who love the patient most may be psychologically inhibited from cutting him even for his benefit. If the reader "feels the scalpel" in this discussion let him be assured that it is being wielded in the interest of the optimal development of the Islamic world. Nor should it be assumed that this technological decline after preeminence has only befallen Muslim countries.

An attempt will be made here to convince the reader that technological decay is an inevitable concomitant of the asymptotic (end) state of a society which may be characterized as "overdeveloped" and that, contrary to popular opinion, the Muslim countries are not underdeveloped but rather overdeveloped in the organization of their economic systems. In this discussion the terminology adopted will be largely economic, but the arguments may be applied in the intellectual, philosophical and religious spheres as well. The question addressed is "What causes the decline of the innovative progress in a society?". The answer to be supported here is: "Suppression of free competition". This suppression is a perfectly natural but largely unrecognized development in a society whose economy has matured. It has deep psychological roots in familial love and affection. Individuals in families do not allow free competition between members and non-members of their families. They act preferentially in favour of their family members and try to exclude outsiders from this preferential treatment. Surely this is quite natural to recognize a special obligation to one's family. Loyalty to family becomes in the context of social regroupings, loyalty to community, ethnic group, religious sect, company, party, city, state, or country. As soon as such a group is formed, the necessity for delineating its boundaries requires the introduction of special prerogatives for its adherents. In a way this is required to clarify its definition. The advantages for members of such a group versus the opportunities available to the general public then constitute a suppression of competition with respect to the activities of that group. As groups grow in power and scope, competition is suppressed on a larger scale.

In a "newly formed" society almost everything is disorganized and free competition is rampant. There is a veritable ferment of innovations to satisfy the demands of a rapidly developing market. In this free competition groups which can organize most efficiently to satisfy consumer demand will tend to displace less efficient groups which cannot meet such a demand. By absorption of the marketing areas formerly controlled by less efficient groups the successful ones grow exponentially. Eventually they dominate the market so completely that they are able to form cartels with exclusive control over the sources of their materials and to free themselves from the necessity of competition.

When this happens, the cartels naturally wish to decrease costs and when there is no competition to which the consumer can turn they simply dictate design and price to the consumer who now has no choice but to buy from these cartels or buy nothing. It is at this stage that the quality of goods and services in the society begin to decline. Innovativeness which was at premium value to overcome competition, is no longer necessary and is viewed as an unjustifiable expense. It is more "cost effective" to use existing designs and equipment. There is so little randomness in the economy that very little "risk capital" is available to support bold new ideas. Economic opportunities which were so plentiful in the initial state of the society become seldom events.

Inevitably the economically powerful groups in the society exert pressure on the government to prevent prices from falling while wages are left free to fluctuate. This is not a free economy nor should it be called capitalism, which was linked to the freely competitive growth phase of the early economic system. This leads to a stabilization of the economic structure of the society, an inhibition of opportunities for innovative progress in the society, and to a stratified society with a steady-state class structure. The socialist countries with their rigid commitments to cartelized economies rather than freely competitive ones are even closer to the asymptotic end state dominated by priviledged government officials contemptuous of the citizens they control.

To be sure, there are still a few public-spirited officials here and there, but how long can "noblesse oblige" survive in such an atmosphere with no religious inhibition to stem the lust for power?

The term cartel often conjures up the image of multinational corporations of the modern period, but the concept of a generalized organization capable of suppressing free competition is what is meant here. In this sense one finds cartelism is of ancient origin and feudal cartelism is still with us today. It is a perfectly natural development in the mature stage of a society but after competition has been eliminated the society becomes stratified with a rigid class structure and change and innovative progress are viewed as disturbing elements to be suppressed.

There are extreme examples of such societies still surviving among us unchanged for millions of years and still unchanging. These are the ants and the bees and the termites. To be sure individual humans have immensely more neurons but as our societies become more rigidly organized they assume some of the characteristics of the arthropod societies in which deviations from preassigned behavior modes are punished severely. There is no individual dignity or privacy in an arthropod society. State planning has preempted all individual innovations and thinking and the State cannot be questioned. The implementation of such a government requires that its subjects continually spy upon one another to ensure compliance. The Prophet Muhammad (SAAS) in his wisdom forbade such spying and clearly did not wish to establish a system of unreasoning obedience to the state. The strength of the state should derive from the unextorted consent of the governed and from their confidence in the justice dispensed to them. Prophet Muhammad (SAAS) also forbade usury which is well on its way to destroying the economies of the Western world. According to the theory promulgated in the West interest is "justified" by the need for growth capital which is supposed to ultimately increase productive capacity. Under economic conditions where the increase in productive capacity is severely curtailed there is no substantial growth and the permeation of the economy with an interest system geared towards exponential growth simply produces inflation. This exacerbates the stratification of the society by widening the gap in living standard between wage-earners and wage-providers who can simply raise prices to avoid being undercut by inflation. In the West inflation is viewed as no one's responsibility but it certainly functions as an efficient mechanism for impoverishment of wage-earners quite as well as a deliberate policy.

The people west of the Iron Curtain are disillusioned by the unstemmed increase of usury, inflation, materialism and indecency. The people east of the Iron Curtain are disillusioned by the absolute authority of the state, restrictions on freedom of speech and travel, special economic prerogatives of the political minorities that rule them, continual surveillance by secret police with unrestricted authority and a judicial system with pre-arranged verdicts.

Islam offers a faith of universal brotherhood in which espionage and usury are forbidden, in which the dignity of women is protected, and in which a higher obligation of the wealthy and powerful than to the state is recognized and their commitment to assist the less fortunate clearly enunciated. As the economies of Western Europe and the Americas fail in a sea of usury and the economies of the socialist states of Eastern Europe, Asia and Africa fail from overcontrol, the World of Islam will emerge to regain its former pre-eminence if and only if it can re-introduce the element of free competition into its societies. This requires a revision of custom very difficult to achieve for the Muslim world. It means that people must be given job opportunities on the basis of abilities rather than family affiliations. It means that national policies must be formulated on the basis of Islamic unity and common Muslim advantage rather than upon one of familial advantage. It means that free competition of ideas free of coercion by special interest groups must be restored to Muslim universities and that professors of different opinions and views must be allowed to express them in the same university. It means that students must be free of coercion by professors to follow paths dictated by them. In spite of excellent performance by individual Muslim scientists and engineers in foreign countries, the research output of Muslim universities is today negligible. This can only change by allowing more free competition and rewarding innovation rather than resisting it through fear that one will be required to learn more things to teach. The strange notion that a professor already knows all he must learn upon entry into the academic profession is far too widespread in Islamic universities. We must find new ways of teaching Muslim students. Innovation is not to be achieved by simply copying the West.

The crushing weight of blind adherence to Islamic orthodoxy which emphasize rigid observances of ritualistic ceremonies as a mechanistic formula for salvation was a major factor in the decline of Islamic science and this should be excluded from the Islamic universities. This does not mean that Islamic philosophy should be excluded. The fear that something might be discussed which would subvert the ideals and ethics of Islam can only be entertained by those whose faith is too weak to recognize the intrinsic power of Islam. The Prophet advocated unhampered acquisition of knowledge and warned against the inefficacy of mechanistic observances. Understanding and sincere belief were what he most emphasized and any attempt of certain groups among the Muslims to function as a clergy was strictly forbidden. "There is no compulsion in faith" is in the second surah of the Qur'an. Even forcing people to pray subscribes to the infantile notion that Allah cannot distinguish genuine sincerity and hypocrisy. Although the call of the Islamic fundamentalists for a return to Islamic law is clearly motivated by a desire to overcome the corruption and deviousness of certain Middle East governments, it has the great danger to Islam that it may attract the masses to a conception of salvation achieved by mechanical observances of ceremonies rather than by a sincere reflection (dhikr) on the inner meaning of Muhammad's (SAAS) message. Any attempt to restrict this meditative aspect of Islam to a "Muslim clergy" while leaving "mechanical observances" to the lay public would be a clear contradiction of the Prophet's admonitions.

Finally, let us turn to the reasons why Islamic beliefs are consistent with modern Science. Muhammad emphasized "striving mightily" to acquire wisdom. In Islam the concept of Allah is an abstraction free of inconsistent descriptions in terms of human or other forms. Thus Islam is the only religion which could survive encounters with alien lifeforms from other regions of the universe without major revision. It does not submit pictures of one race's conception of a deity for worship by another race. It offers universal salvation on the basis of ethical behavior to all intelligent beings. There are no hypocritical racial prejudices in Islam.

The contention of atheists that there is no deity is equivalent to the contention that there is no universal ordering principle in the universe. Aside from the fact that there exists no proof of their contention even if it were true, it would contradict the most fundamental conception of science that events are to some extent predictable on the basis of scientifically observed order in the universe.

Faith in the predictability (statistical or deterministic) of events is at the root of science, ancient and modern. Logic is a very powerful tool of the human mind, but it can only ideally extract conclusions from premises. It cannot validate the relevance of the premises to human beliefs. To function in this life with a feeling of security, man must have beliefs. Even the transition between steps in a logical argument is based upon faith.

The Islamic Tawhid, the single unifying all-embracing principle of natural law at once the logical union of all natural laws which the most enlightened of the ancient Egyptians called neter (the origin of the Latin world natura) leaves man free but also obligated to study all correlations of natural phenomena within the scope of his mental abilities. Polytheism does not demand a single source and in this way inhibits deeper investigations by terminating questioning along multiple paths ending in multiple deities. In this sense the Tawhid doctrine is a powerful impetus for the development of modern science.

The Islamic principle of Zakat goes far beyond the dispensation of one fortieth of a Muslim's income to his needy brothers in Islam. It means to Islamic scientists and engineers that their efforts must never cease to raise the stan-dard of living and improve the understanding of Muslim communities everywhere. Only when each Muslim community can be a shining example of progress to other communities of the world will the cause of Islam be fur-thered. As long as a single Muslim family exists in a state of economic abase- ment, social degradation or political oppression, every Muslim is disgraced. It is this interpretation of Zakat which will lead Islam to the forefront of world progress again.

The Muslim principle of Sawm goes beyond the abstinence from eating during daylight hours of Ramadan for those whose health permits. It requires a genuine concern, sympathy and social consciousness for the hungry and the unfortunate. As long as any Muslim feels hunger no Muslim scientist or engineer should relax his efforts to solve the root problems leading to this condition. The Sahel drought problem partially caused by Western ecological mismanagement is a case in point. There is no reason why a consortium of Muslim Banks could not finance a Qattara inland freshwater lake project with immense benefits in agriculture, electric power generation, etc. Nuclear explosions could be used to construct a canal from the Mediterranean and a desalination plant could be hydroelectrically powered by the elevation difference. Muslim technologists must think beyond the giving of food to the provision of a technical base for a bountiful agriculture.

The Muslim obligation of Hajj must go beyond the requirement of travelling to Makkah and participating in the ceremonies. There must be constructed a great central Islamic information center complete with museums and libraries and taped tutorial courses so that every Hajji may have the opportunity whatever his level of understanding to improve his mastery of his profession, trade or craft and thus carry back with him the latest knowledge in his field to enrich his home community. Thus Islamic technology can return to the forefront of human endeavour.

The principle of Muslim Şalah must go beyond the important recognition and praise of the Rahmat Allah and embody a persistent plea for improvement of understanding and guidance for intellectural growth and for the avoidance of intellectural arrogance which only cripples the capacity for creative thinking. The greatest intellectural accomplishments of mankind and its geniuses represent only a kind of stumbling progress compared with the clear path of the enlightenment from Allah without whose guidance the clever sophistry is without avail. Still it is the duty of Muslims to strive mightily and ceaselessly to improve their understanding of the world of nature and submission to the Will of Allah implies this lifelong struggle not the sleep of individuals nor the sleep of centuries by societies. He who fails to try to improve his mind to its optimal capacity treads the path to progress backwards to the status of the unthinking beast. Without exception all will be judged on the basis of what they chose to do compared with what they could have done.

These are the five pillars of Islam as they should be seen by every Muslim scientist and engineer. They are not to be seen as a maximal set of obligations but rather as a minimal set to be expanded into a complete philosophy of Islamic technology in service of man's traversal of al Sirat al Mustaqim.

In Islam, science is not isolated from the system of belief but is an integral part of the Muslim Ummah.


-Islamization of Attitudes and Practices in Science and Technology. Written Ali Kyrala.

Saturday, March 9, 2024

মাহে রমজানে রোজার প্রয়োজনীয় যাবতীয় মাসআলা || একজন রোজাদারের যে সকল করণীয় ও বর্জনীয় কাজ


“রমজানে রোজার যাবতীয় মাসআলা”

‘একজন রোজাদারের করণীয় ও বর্জনীয় কাজ সমূহ’


রমযানুল মুবারক মাস সেসব নেয়ামাতসমূহের মধ্যে একটি নেয়ামাত যা আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দান করেছেন। এ মাসে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ স.-এর মত নেয়ামাত আমরা পেয়েছি। এ মাসেই কুরআন মাজীদ দেয়া হয়েছে, যা হেদায়াত, ফুরকান, রহমত, নূর ও শেফা। মুসলিম উম্মাহর প্রাণস্পন্দন ও উন্নতির নিগূঢ় রহস্য ফী সাবিলিল্লাহর মাঝেই পাওয়া যায় প্রথম মানুষের বা মানবতার হৃদয় জয় করার জন্য জিহাদ, পরে সাংস্কৃতিক বিজয়ের জন্য জিহাদ-আর এ সকল জিহাদের সাথে সাথে চূড়ান্ত কামিয়াবীর জন্য আপন নফসে আম্মারার বিরুদ্ধে জিহাদ। যাতে করে অর্জিত হয় তাকওয়া, ব্যক্তিগত তাকওয়া এবং সাথে সাথে সমষ্টির তাকওয়া; রাতে জাগরণে শীতের রাতে ইশকের সাথে ওযু করা, লাইফে সাদাকাত (দান-খয়রাত) দিয়ানত, আমানত, আদালত (সুবিচার করা), শুজাআত (নির্ভীকতা, উথুয়াত (ভ্রাতৃত্ব) ও মানুষের অধিকারের প্রতি সম্মান। পবিত্র মাহে রমজানে একজন রোজাদারের করণীয় ও বর্জনীয় কাজ সমূহ আলোকপাত করা হলো।

রোজা অবস্থায় যখন কাফফারা ওয়াজিব হয়:

১. রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত কোনো খাদ্য আহার করলে অথবা ওষুধ খেলে অথবা সিঙ্গা কিংবা সুরমা লাগানোর পর অথবা গীবত করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে ইচ্ছাকৃত আহার বা পান করলে।
২. প্রিয়জনের প্রিয় থুতু ইচ্ছাকৃত গিলে ফেললে।
৩. ইচ্ছাকৃতভাবে বিড়ি, সিগারেট, হুক্কা ইত্যাদি খেলে।
৪. ইচ্ছাকৃত স্ত্রী মিলন করলে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বতঃস্ফূর্ত থাকলে তার ওপরও কাজা-কাফফারা ওয়াজিব হবে। আর স্ত্রী রাজি না থাকলে বরং তার সঙ্গে জোরপূর্বক করা হলে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে, কাফফারা নয়।
৫. কামভাবের সঙ্গে স্ত্রীকে স্পর্শ করল অথবা চুম্বল করল বা আলিঙ্গন করল, তবে বীর্যপাত হয়নি, কিন্তু সে মনে করল, রোজা ভেঙে গেছে। ফলে ইচ্ছাকৃত পানাহার করল, তা হলে তার ওপর কাজা এবং কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। (বাদায়িউস সানায়ে ২/৫৫৮)
৬. কেউ গোঁফে তেল লাগালো আর মনে করল রোজা ভেঙে গেছে, অতঃপর ইচ্ছাকৃত আহার করল, তা হলে তার ওপর কাজা ও কাফফারা উভয় ওয়াজিব হবে। (বাদায়িস সানায়ে ২/২৫৮)
৭. বিনা ওজরে একই রমজানে এক বা একাধিক রোজা রাখার পর ভেঙ্গে ফেললে একটি কাফফারা ওয়াজিব হবে। আর রোজাগুলো একাধিক রমজানের হলে প্রত্যেক রমজানের জন্য এক একটি করে কাফফারা ওয়াজিব হবে। (রদ্দুল মুখতার: ৩/৩)


রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ:

১. ইচ্ছা করে বমি করা
২. বমির বেশির ভাগ মুখে আসার পর তা গিলে ফেলা
৩. মেয়েদের মাসিক ও সন্তান প্রসবের পর ঋতুস্রাব
৪. ইসলাম ত্যাগ করলে
৫. গ্লুকোজ বা শক্তিবর্ধক ইনজেকশন বা সেলাইন দিলে
৬. প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ বা অন্য কিছু শরীরে প্রবেশ করালে
৭. রোজাদারকে জোর করে কেউ কিছু খাওয়ালে
৮. ইফতারের সময় হয়েছে ভেবে সূর্যাস্তের আগে ইফতার করলে
৯. মুখ ভরে বমি করলে
১০. ভুলবশত কোনো কিছু খেয়ে, রোজা ভেঙে গেছে ভেবে ইচ্ছা করে আরও কিছু খেলে
১১. বৃষ্টির পানি মুখে পড়ার পর তা খেয়ে ফেললে
১২. কান বা নাক দিয়ে ওষুধ প্রবেশ করালে
১৩. জিহ্বা দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে ছোলা পরিমাণ কোনো কিছু বের করে খেয়ে ফেললে
১৪. অল্প বমি মুখে আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে তা গিলে ফেললে
১৫. রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় অজুতে কুলি বা নাকে পানি দেয়ার সময় ভেতরে পানি চলে গেলে। (ফাতাওয়ায়ে শামি ও ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি)।


যেসব কারনে রোজা কাজা করতে হয়:
১. ইচ্ছা করে বমি করা,
২. বমির বেশির ভাগ মুখে আসার পর তা গিলে ফেলা,
৩. মেয়েদের মাসিক ও সন্তান প্রসবের পর ঋতুস্রাব,
৪. ইসলাম ত্যাগ করলে,
৫. গ্লুকোজ বা শক্তিবর্ধক ইনজেকশন বা সেলাইন দিলে,
৬. কুলি করার সময় অনিচ্ছায় গলার ভেতর পানি প্রবেশ করলে,
৭. প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ বা অন্য কিছু শরীরে প্রবেশ করালে,
৮. রোজাদারকে জোর করে কেউ কিছু খাওয়ালে,
৯. রাত অবশিষ্ট আছে মনে করে সুবেহ সাদিকের পর পানাহার করলে,
১০. ইফতারের সময় হয়েছে ভেবে সূর্যাস্তের আগে ইফতার করলে,
১১. মুখ ভরে বমি করলে,
১২. ভুলবশত কোনো কিছু খেয়ে, রোজা ভেঙে গেছে ভেবে ইচ্ছা করে আরো কিছু খেলে,
১৩. বৃষ্টির পানি মুখে পড়ার পর তা খেয়ে ফেললে,
১৪. কান বা নাক দিয়ে ওষুধ প্রবেশ করালে,
১৫. জিহ্বা দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে ছোলা পরিমাণ কোনো কিছু বের করে খেয়ে ফেললে,
১৬. অল্প বমি মুখে আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে তা গিলে ফেললে,
১৭. রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় অজুতে কুলি বা নাকে পানি দেওয়ার সময় ভেতরে পানি চলে গেলে।


যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়:
*বিনা ওজরে কোনো জিনিস মুখে দিয়ে চিবানো।
*গরমের কারণে বারবার কুলি করা।
*টুথ পাউডার, পেস্ট, কয়লা বা অন্য কোনো মাজন দ্বারা রোজার দিনে দাঁত পরিষ্কার করা।
*বিনা ওজরে জিহ্বা দ্বারা কোনো বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করা। তবে বদমেজাজি স্বামীর জন্য স্ত্রীর তরকারির স্বাদ গ্রহণ করার অনুমতি আছে।
*রোজাদার অবস্থায় কারও গিবত (পরচর্চা, পরনিন্দা) করা।
*মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া।
*অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করা কিংবা পাঠ করা।
*ঝগড়া-বিবাদ করা।


যে সব কারণে রোজা ভাঙ্গে না/রোজার ক্ষতি হয় না:
০১. অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধুলা-বালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা।
০২. অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা।
০৩. অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)।
০৪. বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া।
০৫. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা।
০৬. ইনজেকশন নেয়া।
০৭. ভুলক্রমে পানাহার করা।
০৮. সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ নেয়া।
০৯. নিজ মুখের থুথু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করা।
১০. শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা।
১১. ঠাণ্ডার জন্য গোসল করা।
১২. মিসওয়াক করা। যদিও মিসওয়াক করার দরুন দাঁত থেকে রক্ত বের হয়। তবে শর্ত হলো গলার ভেতর না পৌঁছানো।
১৩. ঘুমের মাঝে স্বপ্নদোষ হলে।
১৪. স্ত্রীলোকের দিকে তাকানোর কারণে কোনো কসরত ছাড়া বীর্যপাত হলে।
১৫. স্ত্রীকে চুম্বন করলে, যদি বীর্যপাত না হয় (রোজা না ভাঙলেও এটা রোজার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী)।
১৬. দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা গোশত খেয়ে ফেললে (যদি পরিমাণে কম হয়), পরিমাণ বেশি হলে রোজা ভেঙে যাবে।

Thursday, March 7, 2024

ইসলামী অর্থনীতিতে জাকাত ব্যবস্থার প্রবর্তন || জাকাত বিলি-বণ্টনে রাসুল সাঃ এর নিয়মনীতি

ইসলামী অর্থনীতিতে জাকাত ব্যবস্থার প্রবর্তন || জাকাত বিলি-বণ্টনে রাসুল সাঃ এর নিয়মনীতি


ইসলামী অর্থনীতিতে জাকাত ব্যবস্থার প্রবর্তন

জাকাত বিলি-বণ্টনে রাসুল সাঃ এর নিয়মনীতি 

জাকাত ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। আল-কুরআনে বারংবার নামাজ কায়েমের পরই জাকাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আ'লামিনের নির্দেশেই জাকাত আদায়ের ব্যাপারে রাসূলে করীম (সা) সাহাবীগণকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং এজন্যে একটা প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন। কেন জাকাতের এই গুরুত্ব? ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় সম্পদ বন্টন তথা সামাজিক সাম্য অর্জনের অন্যতম মৌলিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসেবেই জাকাত গণ্য হয়ে থাকে। সমাজে আয় ও সম্পদ বন্টনের ক্ষেত্রে বিরাজমান ব্যাপক পার্থক্য হ্রাসের জন্যে জাকাত একটি অত্যন্ত উপযোগী হাতিয়ার। জাকাতের সঙ্গে প্রচলিত অন্যান্য সব ধরনের করের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কারণ, ইসলামের এই মৌলিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাধারে নৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক মূল্যবোধ অন্তর্নিহিত রয়েছে। কিন্তু সাধারণ করের ক্ষেত্রে কোন নৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক তাগিদ নেই।

জাকাত ও প্রচলিত করের মধ্যে পার্থক্য:

জাকাত ও প্রচলিত করের মধ্যে অন্তত চারটি সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। যথা:


প্রথমত: নির্দিষ্ট আয়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারকে নির্ধারিত হারে কর প্রদান করতে হয়। এ জন্য করদাতা কোন প্রত্যক্ষ উপকার প্রত্যাশা করতে পারে না। সরকার করের মাধ্যমে অর্জিত এই অর্থ দরিদ্র ও অভাবী জনসাধারণের মধ্যে ব্যয়ের জন্যে বাধ্য থাকেন না। পক্ষান্তরে জাকাত হিসেবে আদায়কৃত অর্থ অবশ্যই আল-কুরআনে নির্দেশিত লোকদের মধ্যেই বন্টন করতে বা তাদের জন্যেই ব্যবহৃত হবে।


দ্বিতীয়ত: জাকাতের অর্থ রাষ্ট্রীয় সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে ব্যয় করা যাবে না। কিন্তু করের অর্থ যেকোন কাজে ব্যয়ের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা সরকারের রয়েছে।


তৃতীয়ত: জাকাত প্রদান শুধুমাত্র বিত্তশালী বা সাহেবে নিসাব মুসলিমদের জন্যেই বাধ্যতামূলক। কিন্তু কর বিশেষত পরোক্ষ কর, সর্বসাধারণের উপর আরোপিত হয়ে থাকে। অধিকন্তু প্রত্যক্ষ করেরও বিরাট অংশ জনসাধারণের উপর কৌশলে চাপিয়ে দেওয়া হয়।


চতুর্থত: জাকাতের হার পূর্বনির্ধারিত এবং স্থির। কিন্তু করের হার স্থির নয়। যে কোন সময়ে সরকারের ইচ্ছানুযায়ী করের হার ও করযোগ্য বস্তু বা সামগ্রীর পরিবর্তন হয়ে থাকে।


সুতরাং, জাকাতকে কোনক্রমেই প্রচলিত অর্থে সাধারণ কর হিসেবে গণ্য করা যায় না বা তার সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে না।

যে সব বস্তুর উপর যাকাত ধার্য:

ইসলামী শরীয়াহ অনুসারে যে সমস্ত সামগ্রীর উপর জাকাত ধার্য হয়েছে সেগুলি হলো-


১. ব্যাংকে/ হাতে সঞ্চিত/ জমাকৃত অর্থ;

২. সোনা, রূপা, এবং সোনা-রূপা দ্বারা তৈরি অলংকার;

৩. ব্যবসায়ের পণ্য সামগ্রী:

৪. জমির ফসল;

৫. খনিজ উৎপাদন; এবং

৬. সব ধরনের গবাদি পশু।


উপরোক্ত দ্রব্যসামগ্রীর একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ যখন কোন মুসলমান অর্জন করে তখন তাকে জাকাত দিতে হয়। এই পরিমাণকে নিসাব বলে। নিসাবের সীমা বা পরিমাণ দ্রব্য হতে দ্রব্যে ভিন্নতর। একইভাবে জাকাতের হারও দ্রব্য হতে দ্রব্যে ভিন্নতর। জাকাতের সর্বনিম্ন হার শতকরা ২.৫%।

•জাকাতের খাত ও বন্টন নীতি:

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জাকাত কাদের প্রাপ্য অর্থাৎ কাদের মধ্যে জাকাতের অর্থ বন্টন করে দিতে হবে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন-


"দান-খয়রাত তো পাওনা হলো দরিদ্র ও অভাবীগণের, যে সকল কর্মচারীর উপর আদায়ের ভার আছে তাদের, যাদের মন (সত্যের প্রতি) সম্প্রতি অনুরাগী হয়েছে, গোলামদের মুক্তির জন্যে, ঋণগ্রস্তদের জন্যে, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্যে। এটি আল্লাহর তরফ হতে ফরজ এবং আল্লাহ সব জানেন ও বুঝেন।" (সূরা আত-তাওবা: ৬০ আয়াত)


উপরের আয়াত হতে আট শ্রেণীর লোকদের মধ্যে জাকাতের অর্থ ব্যবহারের জন্যে সুস্পষ্ট নির্দেশ পাওয়া যায়। সেগুলি হচ্ছে:


১. দরিদ্র জনসাধারণ;

২. অভাবী ব্যক্তি;

৩. যে সকল কর্মচারী জাকাত আদায়ে নিযুক্ত রয়েছে;

৪. নও-মুসলিম;

৫. ক্রীতদাস মুক্তি;

৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি;

৭. আল্লাহর পথে, এবং

৮. মুসাফির।


এই আটটি খাতের মধ্যে ছয়টিই দারিদ্র্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অন্য দুটি খাতও (৩ ও ৭) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা জাকাত আদায় ও ব্যবস্থাপনা একটি কঠিন ও শ্রমসাপেক্ষ কাজ। এ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের এটাই সার্বক্ষণিক দায়িত্ব। সুতরাং, তাদের বেতন এই উৎস হতেই দেওয়া বাঞ্ছনীয়। তাছাড়া যেসব ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রামে লিপ্ত তারাও অন্য কোনভাবে জীবিকা অর্জনের সুযোগ হতে বঞ্চিত। সুতরাং, উপরে বর্ণিত আটটি খাতেই যদি জাকাতের অর্থ ব্যয় হয় তাহলে দরিদ্রতা দূর হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য বহু অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার নিরসন হবে।

সুষ্ঠুভাবে জাকাত আদায়ে রাসুল সাঃ এর ভূমিকা:

রাসূলে করীম (সা) নিশ্চিতভাবেই জানতেন, ইসলামী রাষ্ট্রে মৌলিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাকাতের প্রতিষ্ঠা হলে বহুবিধ কল্যাণ সাধিত হবে। তাই তিনি জাকাত যথাযথ আদায় ও তার সুষ্ঠু বন্টনের জন্যে কঠোর তাগিদ দিয়ে গেছেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সুষ্ঠুভাবে জাকাত আদায়ের জন্যে রাসূলে করীম (সা) নবম ও দশম হিজরিতে আরব ভূখন্ডের বারোটি এলাকায় বারোজন প্রখ্যাত সাহাবীকে দায়িত্ব প্রদান করেন।

অনুরূপভাবে পনেরোটি প্রধান গোত্র হতে জাকাত আদায়ের দায়িত্ব তিনি বারোজন খ্যাতনামা সাহাবীর উপর অর্পণ করেছিলেন।

রাসুল সাঃ এর বিলি বন্টন যারা করতেন:

জাকাত যথাযথ বিলি বন্টনের জন্যেও নবীজীর (সা) উদ্যোগেই বলিষ্ঠ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়েছিল যা আজকের যেকোন উন্নত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে তুলনীয়। এ থেকেই বোঝা যায় জাকাত বায়তুলমালের কত বড় গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এই প্রতিষ্ঠানে নিচে বর্ণিত আট শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োজিত ছিল। এরা হচ্ছে-


১. সায়ী = গবাদি পশুর জাকাত সংগ্রাহক;

২. কাতিব = করণিক;

৩. কাসাম = বন্টনকারী;

৪. আশির = জাকাত প্রদানকারী ও জাকাত প্রাপকদের মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপনকারী;

৫. আরিফ = জাকাত প্রাপকদের অনুসন্ধানকারী;

৬. হাসিব = হিসাব রক্ষক;

৭. হাফিজ = জাকাতের বস্তু ও অর্থ সংরক্ষক; এবং

৮. কায়াল = জাকাতের পরিমাণ নির্ণয় ও ওজনকারী।

জাকাতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য:

জাকাতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য বহুবিধ। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রধান এবং মুখ্য হচ্ছে কতিপয় ব্যক্তির হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হতে না দেওয়া। ইসলাম সামাজিক শ্রেণী বৈষম্যকে শুধু নিন্দাই করে না, বরং তা দূরীভূত করার পদক্ষেপও অবলম্বন করতে বলে। তাই একটি সুখী, সুন্দর এবং উন্নত সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্যে বিত্তশালী মুসলিমদের অবশ্যই তাঁদের সম্পদের একটা অংশ ব্যয় করা উচিত। এর ফলে শুধু অসহায় ও দুস্থ মানবতার কল্যাণ হবে তাই নয়, আয়-বন্টনের বৈষম্যও হ্রাস পাবে। জাকাত প্রদানের ফলে সম্পদশালী মুসলিমের মন হতে ধন-সম্পদের লালসা দূরীভূত হবে। দরিদ্রদের অভাব মোচনের জন্যে নিজেদের দায়-দায়িত্ব সম্বন্ধে তারা সচেতন হবে। বিত্তবান মুসলমানদের আল্লাহ সৎপথে তাদের সম্পদ ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন। বার্ষিক উদ্বৃত্ত অর্থ হতে নির্দিষ্ট হারে একটা অংশ দরিদ্র এবং দুর্দশাগ্রস্ত জনগণের মধ্যে তারা বিতরণ করবেন। এর ফলে তারা দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করবেন।


জাকাত মজুতদারি বন্ধ করারও এক প্রধান ও বলিষ্ঠ উপায়। মজুতকৃত সম্পদের উপরই জাকাত হিসেব করা হয়ে থাকে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ এবং মজুত সম্পদ যেকোন অর্থনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচিত হয়ে তাকে। অবৈধভাবে অর্থ মজুত করার ফলে নানারকম সামাজিক সমস্যা দেখা দেয়। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা এর প্রকৃষ্ট নজির। অল্প কিছু লোকের হাতে বিপুল অবৈধ ও কালো টাকা জমেছিল। সরকারের এমন কোন কৌশল বা পদ্ধতি ছিল না যার দ্বারা এই অবৈধ অর্থের সঠিক পরিমাণ জানা সম্ভব ছিল। ফলে এসবের ব্যয় ও ব্যবহারের উপর কোন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়নি। পরিণামে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতির ও সামাজিক শ্রেণী বৈষম্যের।


কোন পদ্ধতিই সার্থকভাবে উপরোক্ত সমস্যার মুকাবিলা করতে সক্ষম নয়। একমাত্র ইসলামেই তার সমাধান রয়েছে। কারণ বিত্তবানদের জন্যে তাদের মজুতকৃত অর্থ বা সম্পদের একটা অংশ নিছক বিলিয়ে দেবার মতো কোন পার্থিব কারণ নেই। কিন্তু একজন মুসলমানের আল্লাহ ও আখিরাতের ভয় রয়েছে। উপরন্তু ইসলামী রাষ্ট্রে আল-কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রবর্তিত আইনে সরকারের হাতে প্রভূত ক্ষমতাও রয়েছে মজুত সম্পদকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ব্যয়, বিতরণ বা সরকারের কাছে সমর্পণে বাধ্য করতে। এর ফলে বিত্তবানদের সামনে দু'টি মাত্র পথ খোলা থাকবে-


১. শিল্প বা ব্যবসায়ে অর্থ বিনিয়োগ করা, অথবা

২. ইসলামী অনুশাসন অনুযায়ী তা ব্যয় করা।


জাকাতের অন্যতম অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলামী সমাজ হতে দারিদ্র্য দূর করা। দারিদ্র্য মানবতার পয়লা নম্বরের দুশমন। ক্ষেত্রবিশেষে তা কুফরি পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। যে কোন সমাজ ও দেশের এটা সবচেয়ে জটিল ও তীব্র সমস্যা। সমাজে হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতির সৃষ্টি হয় দরিদ্রতার ফলে। পরিণামে দেখা দেয় সামাজিক সংঘাত। বহু সময়ে রাজনৈতিক অভ্যুত্থান পর্যন্ত ঘটে। অধিকাংশ অপরাধই সচরাচর ঘটে দরিদ্রতার জন্যে। এ সমস্যাগুলির প্রতিবিধান করার জন্যে জাকাত ইসলামের অন্যতম মুখ্য হাতিয়ার। যে আট শ্রেণীর লোকের কথা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, জাকাত লাভের ফলে তাদের দিনগুলি আনন্দ ও নিরাপত্তার হতে পারে। জাকাত যথাযথভাবে আদায় ও পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হলে আজকের দিনেও এর মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব।


একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পূর্বে বর্ণিত বিভিন্ন ধরনের লোকদের মধ্যে যখন জাকাতের অর্থসামগ্রী বন্টন করে দেওয়া হয় তখন শুধু যে অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয় তাই নয়, বরং অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও গতিবেগ সঞ্চারিত হয়। দরিদ্র ও দুর্গত লোকদের ক্রয়ক্ষমতা থাকে না। বেকারত্ব তাদের নিত্যসঙ্গী। জাকাত প্রাপ্তির ফলে তাদের হাতে অর্থাগম হলে বাজারে কার্যকর চাহিদার সৃষ্টি হয়। এরই ফলে দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। তখন অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন প্রেরণার সৃষ্টি হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নির্মাণ ক্ষেত্রেও সৃষ্টি হয় অনুকূল পরিবেশ। ফলশ্রুতিতে প্রচলিত সামাজিক শ্রেণীসমূহের মধ্যে আয়গত পার্থক্যও হ্রাস পেতে থাকে।